


বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার প্রতিযোগিতায় আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে জাপান। মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গড় ১০৬ দশমিক ৪৮ আইকিউ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান জাতির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সূর্যোদয়ের দেশটি। এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে ব্রিটিশ মনোবিদ রিচার্ড লিনের দীর্ঘদিনের গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের অবস্থান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের আইকিউ নিয়ে প্রায়ই নানা রকম রসিকতা দেখা গেলেও, বৈজ্ঞানিক পরিমাপে দেশটির প্রকৃত অবস্থান কী—তা এই তালিকায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১৯৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের গড় আইকিউ স্কোর ৭৪ দশমিক ৩৩, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশ নিচে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইকিউ বা বুদ্ধিমাত্রা সাধারণত মানুষের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, যুক্তিবোধ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জটিলতা মোকাবিলার সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। সাধারণভাবে ৮৫ থেকে ১১৫ আইকিউ স্কোরকে স্বাভাবিক ধরা হয়। এর নিচে থাকলে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম হিসেবে বিবেচিত হয়, আর ১৬০ বা তার বেশি স্কোর পেলে সেই ব্যক্তিকে ‘জিনিয়াস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এই তালিকায় সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো—শীর্ষ ছয়টি অবস্থানই দখল করে রেখেছে এশিয়ার দেশগুলো। জাপানের পরেই মাত্র দশমিক শূন্য এক ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাইওয়ান, যার গড় আইকিউ স্কোর ১০৬ দশমিক ৪৭। তৃতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের গড় স্কোর ১০৫ দশমিক ৮৯। এরপর চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হংকং, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ২৯তম, আর যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিধর দেশ শীর্ষ দশে জায়গা করে নিতে পারেনি।
তালিকার একেবারে নিচের দিকে রয়েছে নেপাল। দেশটির গড় আইকিউ স্কোর মাত্র ৪২ দশমিক ৯৯, যা তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনামূলক অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ তার বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ভারতের অবস্থান ১৪৩তম, যেখানে দেশটির গড় আইকিউ স্কোর ৭৬ দশমিক ৭৪। পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে; ৮০ গড় স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান ১২০তম। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও দারিদ্র্যে জর্জরিত আফগানিস্তানও ৮২ আইকিউ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে, যার অবস্থান ১০৩তম।
এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। মিয়ানমারের গড় আইকিউ ৯১ দশমিক ১৮, থাইল্যান্ডের ৮৮ দশমিক ৮৭ এবং শ্রীলঙ্কার ৮৮ দশমিক ৬২। এসব তথ্য বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।