


মহাকাশে চাঁদের পথে যাত্রার সময় আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা পাঠিয়েছেন পৃথিবীর এক অনবদ্য ও চমকপ্রদ ছবি। নাসার মহাকাশযান অরিওন এখন লুনার ফ্লাইবাইয়ের দিকে এগোচ্ছে, পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই মিশন মানবজাতির জন্য চাঁদ ও পৃথিবীর মাঝামাঝি পথের গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’ নামের প্রথম ছবি তুলেছেন, যেখানে নীল জলরাশি, সূর্যালোক আড়াল হয়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের উজ্জ্বল রেখা এবং দুই মেরুতে সবুজাভ অরোরা দেখা যায়। ছবিতে পৃথিবী কিছুটা উল্টো অবস্থায় ধরা পড়েছে, যেখানে পশ্চিম সাহারা মরুভূমি, আইবেরীয় উপদ্বীপ এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ স্পষ্ট। নাসা শনাক্ত করেছে ছবিতে উজ্জ্বল একটি গ্রহকে শুক্র গ্রহ।
মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন জানিয়েছেন, ইঞ্জিন বার্নের পরে নভোচারীরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে একের পর এক ছবি তুলেছেন। এ সময় পৃথিবীর অন্ধকার দিক, চাঁদের আলোয় আলোকিত দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছে। তবে জানালার কিছুটা ময়লা হওয়ার কারণে ছবি তোলার আগে কমান্ডার মিশন কন্ট্রোলে জানালার পরিচ্ছন্নতার পরামর্শ দিয়েছেন।
নাসা আরও জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ বর্তমানে একটি লুপ আকৃতির পথ অনুসরণ করছে, যা নভোচারীদের চাঁদের অপর প্রান্ত ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার মানুষের বহনকৃত মহাকাশযান এত দূরে পৌঁছাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নভোচারীরা ৬ এপ্রিল চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করবেন এবং ১০ এপ্রিল নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
নাসা প্রকাশিত ছবিগুলোর সঙ্গে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের তুলনাও করা হয়েছে। বার্তায় তারা জানিয়েছে, গত ৫৪ বছরে প্রযুক্তিতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দৃশ্যের অপূর্ব সৌন্দর্য এখনও অপরিবর্তিত।