Date: May 12, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / খুলনা / ২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি দিয়ে অনিয়মের অভিযোগ! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি দিয়ে অনিয়মের অভিযোগ!

May 12, 2026 12:48:15 PM   অনলাইন ডেস্ক
২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি দিয়ে অনিয়মের অভিযোগ!

চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুর থেকে জীবননগর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি বালুর সঙ্গে মাটি মিশিয়ে কাজ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে যাওয়া ও ফাটল দেখা দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লোকনাথপুর থেকে জীবননগর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজের অনুমোদন পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মঈনুদ্দিন বাসি লিমিটেড। প্রায় ২৫ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ককে ২৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়।

কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বালুর সঙ্গে মাটি মিশিয়ে ব্যবহার, পুরোনো ও নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তার বেস তৈরি এবং যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ না করায় নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ফেটে গেছে ও দেবে গেছে।

সম্প্রতি জীবননগরের পেয়ারাতলা এলাকায় অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয়রা সড়কের কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভও করেন। তারা অভিযোগ করেন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “রাস্তায় যে বালু ব্যবহার করা হয়েছে তা ভালো মানের নয়। খোয়ার পরিমাণ বেশি হলেও কাজের মান খুবই খারাপ। এখনই বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।”

chiya.jpeg

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজ চলাকালে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি। তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করেছে বলে দাবি তার। তিনি বলেন, “এভাবে কাজ হলে কয়েক মাস না যেতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।”

এদিকে সড়কের দুই পাশ অস্বাভাবিকভাবে নিচু থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে রাতে যানবাহন চলাচলে বাড়ছে শঙ্কা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মঈনুদ্দিন বাসি লিমিটেডের জুনিয়র প্রকৌশলী আলামিন হোসেন বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেই কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য কিছু স্থানে এজিং লেভেলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে সব অংশ সমান করে দেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, “সড়কের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। যান চলাচলের সুবিধার্থে কিছু অংশ খোলা রাখা হয়েছে। কার্পেটিং ও ওয়ারিং কোর্সের কাজ শেষে রাস্তার লেভেল ঠিক করা হবে। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”