


এনজিও সংস্থা থেকে ঋণের টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে সেলিনা বেগম নামে এক নারীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই ছিনতাইয়ের নেপথ্যে ছিলেন ভুক্তভোগীর নিজের ভাতিজাই। এ ঘটনায় ভাতিজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সেলিনা বেগম। পরে ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি পান্তাপাড়ায় ফিরছিলেন তিনি। পথে মহেশপুর উপজেলার মথুরানগর এলাকায় পৌঁছালে অপর একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাত থেকে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। পরে সেই সূত্র ধরে জলিলপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খানকে (২৪) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আমিনুর ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে পুলিশকে জানায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা ভাতিজা লিটনই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমিনুর ও শাওন মোটরসাইকেলে করে আগে থেকেই লিটন ও তার ফুফুকে অনুসরণ করছিল। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর লিটন ইচ্ছাকৃতভাবে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেয়। তখন আমিনুরের মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা শাওন সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি টেনে নিয়ে পালিয়ে যায়।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে আমিনুরকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে লিটন ও বরকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত আরেক আসামি মহেশপুরের কাজীপাড়া গ্রামের আইনাল বদ্দির ছেলে শাওন বদ্দি (২৩) এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।