


ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়ন ও সহপাঠী হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একযোগে সড়ক অবরোধে বুধবার কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই সময় সহপাঠী সাকিবুল হাসান হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়কে নামেন। এতে ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড়, তাঁতিবাজার চৌরাস্তা ও মহাখালী এলাকায় একযোগে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর অনুমোদন দিতে হবে এবং রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার চৌরাস্তা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অবরোধ করেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিনুল কবীর তরফদার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে টেকনিক্যাল মোড়ে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে গাবতলী, মিরপুর ও টেকনিক্যাল মোড় সংলগ্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘টালবাহানা বন্ধ কর, অধ্যাদেশ জারি করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল জানান, শিক্ষার্থীদের সড়ক ছাড়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করলে নিউ মার্কেট, শাহবাগ ও ধানমন্ডিমুখী সব যানবাহন আটকে যায়। অন্যদিকে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালী মোড় অবরোধ করেন, যা প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান গুলশান ট্রাফিক জোনের এডিসি জিয়াউর রহমান জিয়া।
এদিকে সহপাঠী সাকিবুল হাসান হত্যার বিচার চেয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রথমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট-খামারবাড়ি অংশ বন্ধ করা হয়, পরে ফার্মগেট মোড় অবরোধ করা হয়। এতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি নেই। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, একযোগে একাধিক সড়ক অবরোধের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।