


এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ করেই কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে তিনি কোন কেন্দ্রে যাবেন তা এখনো গোপন রাখা হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষা মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সাধারণত আগে থেকেই কেন্দ্র নির্ধারণ করে জানানো হলেও এবার ভিন্ন কৌশল নেওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রী যেকোনো সময় আকস্মিকভাবে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারেন। তবে তিনি রাজধানীর কোনো কেন্দ্র নাকি ঢাকার বাইরে কোনো কেন্দ্রে যাবেন, সে বিষয়ে কেউই নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর গন্তব্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সারা দেশে নকলবিরোধী অভিযানের জন্য ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন জেলায় আকস্মিকভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন। সেই কারণে তিনি নেটিজেনদের কাছে ‘হেলিকপ্টার মিলন’ নামেও পরিচিতি পান।
সম্প্রতি তিনি আবারও হেলিকপ্টারে করে আকস্মিক পরিদর্শনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রের নাম প্রকাশ না করায় এবারের পরীক্ষার পরিবেশ নিয়েও বাড়তি নজরদারি ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এদিকে সারাদেশে একযোগে চলছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করছে। পরীক্ষা শেষ হবে দুপুর ১টায়।
প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদরাসা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীরা কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়ে মন্ত্রীর গোপনীয়তা ও পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ—দুই নিয়েই আলোচনা চলছে শিক্ষা মহলে।