


মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে লিড বাড়িয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে সময়ের হিসাব আর উইকেটের পরিস্থিতি বিবেচনায় নাটকীয় কিছু না ঘটলে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট খেলছে টাইগাররা, আর পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে স্বাগতিকরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। আগের দিন ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল টাইগাররা। ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। শেষ দিনের শুরুতেও এই জুটি ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে দলের লিড বাড়ানোর চেষ্টা করে।
তবে দিনের শুরুতেই আসে গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেট। দলীয় ১৬৪ রানে পেসার হাসান আলির বলে আউট হন মুশফিকুর রহিম। বিদায়ের আগে ২২ রান করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর ক্রিজে যোগ দেন লিটন দাস। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক শান্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮৮ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২৭ রানের লিড মিলিয়ে টাইগারদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ২১৫ রান। যদিও এই লিড খুব বড় নয়, তবে ম্যাচের সময় যত কমছে, পাকিস্তানের জন্য লক্ষ্য তাড়া করাও তত কঠিন হয়ে উঠছে।
এই টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ছিল বেশ শক্তিশালী। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ১০১ রানের ইনিংসের পাশাপাশি মুমিনুল হকের ৯১ এবং মুশফিকুর রহিমের ৭১ রানে ভর করে বাংলাদেশ তোলে ৪১৩ রান।
জবাবে পাকিস্তানও লড়াই করেছে সমানতালে। তাদের হয়ে আজান আওয়াইস খেলেন ১০৩ রানের চমৎকার ইনিংস। এছাড়া আবদুল্লাহ ফজল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯ এবং সালমান আগা ৫৮ রান করে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩৮৬ রানে। ফলে বাংলাদেশ পায় ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৌশল হতে পারে দ্রুত কিছু রান তুলে পাকিস্তানকে অল্প সময়ে কঠিন লক্ষ্য দেওয়া। অন্যদিকে পাকিস্তানও ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে পারে। ফলে ম্যাচটি ধীরে ধীরে ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ক্রিকেটে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার সম্ভাবনা কখনোই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি বাংলাদেশ দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারে কিংবা পাকিস্তান অপ্রত্যাশিতভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যায়, তাহলে ম্যাচে নতুন মোড় আসতেও পারে।
উল্লেখ্য, দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু হবে আগামী ১৬ মে সিলেটে। ফলে মিরপুর টেস্টের ফল যাই হোক না কেন, দুই দলই এখন থেকেই পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার দিকেই নজর রাখছে।