


বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সমাজের সকল স্তরের মানুষকে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; বরং সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ পেলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অটিজম ও স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের জন্য এই জনগোষ্ঠীকে মূলধারার বাইরে রাখার সুযোগ নেই। বরং তাদের সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করাই হবে মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অনেক শিশু ও ব্যক্তি বিশেষ প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকেন। কেউ চিত্রাঙ্কনে, কেউ সংগীতে, কেউবা গণিত বা তথ্যপ্রযুক্তিতে অসাধারণ দক্ষতা দেখান। তাই তাদের সঠিক পরিচর্যা, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অটিজম ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজের প্রতিটি স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শৈশবেই অটিজম শনাক্ত করা গেলে এবং দ্রুত চিকিৎসা ও থেরাপির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ অনেকাংশে সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা আত্মবিশ্বাসী, কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে।
রাষ্ট্রপতির মতে, একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য সমাজের কোনো অংশকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। অটিজম সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই পারে একটি মানবিক ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের পথ আরও সুগম করতে।