


দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী কয়েকদিন দেশের আবহাওয়ায় অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বিস্তৃত এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এই সময় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে পাঁচদিন পর দেশের তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ সময় বজ্রপাতের ঝুঁকিও বেশি থাকে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকা ও নগরীর কিছু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে নদীবন্দরগুলোকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত মেনে চলারও নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।