


রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এআই প্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা করা হচ্ছে। চালু হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ৩শ’র বেশি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর উত্তরায় এয়ারপোর্ট সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধন শেষে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনো যানবাহন ক্রসিং অমান্য করলে বা উল্টোপথে চললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা রেকর্ড হবে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মামলা হতে পারে। বর্তমানে রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে প্রায় ৩০টি পয়েন্টে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শাস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজট কমানোই প্রধান লক্ষ্য। নতুন ব্যবস্থায় অপরাধীরা নিজেরাই ভিডিও ফুটেজে তাদের ভুল দেখতে পারবেন, যা সচেতনতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএমপি জানায়, ইতোমধ্যে ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে এবং মালিক-চালকদের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাচ্ছে।
নোটিশ পাওয়ার পরও কেউ হাজির না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ডিএমপি সতর্ক করে বলেছে, সিসি ক্যামেরা বা এআই-ভিত্তিক মামলার নামে কোনো প্রতারণা চক্রের ফাঁদে না পড়তে। কেউ এ ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, ট্রাফিক সিগন্যাল লঙ্ঘন, স্টপ লাইন অমান্য, উল্টো পথে চলা, অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো অপরাধগুলো এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোই মূল লক্ষ্য।