Date: May 11, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ৪ শতাংশের বেশি বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের...

ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ৪ শতাংশের বেশি বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম!

May 11, 2026 08:47:05 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ৪ শতাংশের বেশি বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম!

ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ও শর্তসাপেক্ষ শান্তি প্রস্তাবকে ইরানের অগ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া জানানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই-দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, শিপিং রুট এবং বড় তেল কোম্পানিগুলোর আয়ে।

সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪.১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৪.৫৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৮০ ডলারে উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বাধার আশঙ্কাই এই দামের ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার একটি প্রস্তাব দেন। তবে ইরান সেই প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে, যা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর ভাষায় বলেন, ইরানের অবস্থান তিনি গ্রহণ করতে পারছেন না এবং এটি “একেবারেই অগ্রহণযোগ্য”।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বজ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই জলপথ কার্যত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

সংবাদ অনুযায়ী, ইরান হুমকি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় তারা প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ছোটখাটো সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে ইরানকে একটি সমন্বিত সমাধান দেওয়ার জন্য সময় দেয়, তবে বাস্তব অগ্রগতি এখনও অনিশ্চিত।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ নিষ্কাশন না হওয়া পর্যন্ত সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়েছে।

সৌদি আরামকো জানিয়েছে, বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের রাজস্ব ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেছেন, তাদের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি বিপি জানিয়েছে, তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একইভাবে শেলও আয় বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনে তেলের দাম আরও অস্থিতিশীল হতে পা

সূত্র: বিবিসি