


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দেখা দিয়েছে ভিন্ন এক চিত্র। তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে পুরুষদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় এবার পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন নারীরা। উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার অংগন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল নিতে পুরুষদের দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি নারীদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। রোদে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, কৃষিনির্ভর এই এলাকায় সেচ ও পণ্য পরিবহনের জন্য ডিজেলের চাহিদা এখন অনেক বেশি। পুরুষরা পাম্পে সময় দিলে মাঠের কাজ ব্যাহত হয়, ফলে আয় কমে যায়। তাই সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে নারীরাই এগিয়ে এসেছেন।
লাইনে দাঁড়ানো শম্পা খাতুন বলেন, তার স্বামী তেল আনতে এলে সারাদিন নষ্ট হয়ে যায়। তাই তিনি নিজেই লাইনে দাঁড়িয়ে স্বামীকে মাঠের কাজে পাঠিয়েছেন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান নার্গিস আক্তার। তিনি বলেন, তাদের পণ্যবাহী ট্রলি চালাতে নিয়মিত তেল প্রয়োজন, তাই আয়ের ধারাবাহিকতা রাখতে তিনিই তেল নিতে এসেছেন।
অন্যদিকে, অসুস্থ স্বামীর কষ্ট কমাতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন ডলি মন্ডল নামের আরেক নারী।
পাম্পটির ম্যানেজার আব্দুল হান্নান জানান, পেট্রোলের তুলনায় বর্তমানে ডিজেলের সংকট বেশি। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতি পাঁচজন পুরুষের পর একজন নারীকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
শুধু একটি পাম্পেই নয়, জীবননগরের অন্যান্য ফিলিং স্টেশনেও একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের এই সময়ে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে নারীদের এমন অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।