


কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের পরিবর্তে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শুক্রবার বিকেল থেকে আবারও রাজপথ উত্তপ্ত করে তুলেছেন ইকবাল সমর্থকরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। এর পরই এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বাদ দিয়ে হুদাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর জেরে গত ২৪ ডিসেম্বর রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিও পালিত হয়। মাঝে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে একদিন বিরতি দিয়ে শুক্রবার বাজিতপুরের সরারচরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে দুই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এই জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হলে তা তৃণমূল মেনে নেবে না। সমাবেশে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। ইকবালের হাতে ধানের শীষ তুলে না দেওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়বেন না, প্রয়োজনে রক্ত দেবেন বলেও তারা শপথ করেন।
দলের হাইকমান্ডের প্রতি আস্থা রেখে নেতাকর্মীরা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের আবেগের মূল্যায়ন করবেন। এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে বাজিতপুর বাজারে জনসভা ও মশাল মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।