


চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জামায়াত। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নির্বাচনের সময় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জানানো হয়, গত সোমবার শাহজাহান চৌধুরীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে’ তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, “নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়, বরং নির্বাচনী এলাকার প্রশাসনকেও আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তারা আমাদের নির্দেশে কাজ করবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার মূল নীতিকে স্পষ্টভাবে ব্যাহত করেছে। এছাড়া, শাহজাহান চৌধুরীর পূর্বের কিছু শৃঙ্খলা বিরোধী ও সাংগঠনিক ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী মন্তব্যের কারণে তাকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই মন্তব্যের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কূটনৈতিক মহল থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া এসেছে। সাধারণ জনগণ ও দলীয় জনশক্তির মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে সংগঠনের ভাবমর্যাদা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি জামায়াতের গঠনতন্ত্র, নীতি, আদর্শ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিপন্থী।
শাহজাহান চৌধুরীর কাছে জামায়াত আমিরের নির্দেশে নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জবাব প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না আসলে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।