Date: April 18, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / বরিশাল / বাল্যবিবাহ ঠেকাতে থানায় আশ্রয় নিল এসএসসি পরীক্ষার্থী - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বাল্যবিবাহ ঠেকাতে থানায় আশ্রয় নিল এসএসসি পরীক্ষার্থী

April 18, 2026 07:53:26 PM   অনলাইন ডেস্ক
বাল্যবিবাহ ঠেকাতে থানায় আশ্রয় নিল এসএসসি পরীক্ষার্থী

পিরোজপুরের জিয়ানগরে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী থানায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায় ওই শিক্ষার্থী, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইন্দুরকানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রী লেখাপড়ায় মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রথমে সে পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে সমাধান না হওয়ায় দুই দফায় ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং বাল্যবিবাহ থেকে বাঁচার জন্য সহায়তা চায়।

সহপাঠীরা জানান, রুবিনা (ছদ্মনাম) খুবই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী। তারা মনে করে, তার এই বয়সে বিয়ে হলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে এবং লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হবে। তারা তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের আর্থিক চাপ বা সামাজিক কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি একটি মেয়ের ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজে জানায়, তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, কিন্তু সে এখনই বিয়ে করতে চায় না। তার লক্ষ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

অন্যদিকে, মেয়েটির বাবা আলম হাওলাদার দাবি করেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং ভালো একটি বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ায় তারা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারা মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে চেয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির হোসেন জানান, শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এবং কোনোভাবেই তাকে ঝরে পড়তে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। অভিভাবকদের থানায় ডেকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।