


জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একের পর এক নেতার পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। জোট ঘোষণার পর গতকাল রোববার আরও কয়েকজন নেতাকর্মী দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে প্রকাশ্যে পদত্যাগের কথা জানান।
এই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন এনসিপির কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী। রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে আজাদ খান ভাসানী লেখেন, অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন। শুরু থেকেই তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এসেছেন। তেপ্পান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল তার রাজনৈতিক পথচলার প্রধান প্রেরণা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং বৈষম্যহীন রাজনীতির আদর্শ থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। সেই ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও তিনি গ্রহণ করেন।
তবে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আজাদ খান ভাসানী বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন, তা দলের ভেতরে তিনি স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারেননি। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে নেতৃত্ব ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা আরও জোরালো হচ্ছে। দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।