


গাজীপুরের শ্রীপুরে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা পোষণ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামসুল হক মিলন নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে শ্রীপুর মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন আব্দুর রহমান সরকার ওরফে সুফি হুজুর নামে এক মসজিদের ইমাম।
উগ্রবাদীদের হামলার শিকার সামসুল হক মিলন পেশায় একজন পরিবহন ব্যবসায়ী এবং অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের সদস্য।
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন যেখানে লেখা ছিল, “হেযবুত তওহীদ চায় আল্লাহর বিধান (কোরআন) দিয়ে সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। আমাদের কথা একটাই রাষ্ট্র সবার, হুকুম চলবে আল্লাহর। আমি গর্বিত, আমি হেযবুত তওহীদ।” এই পোস্টের জেরে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার কর্মস্থলে গিয়ে রিয়াদ খান নামের এক ব্যক্তির সাথে উগ্রবাদী একদল লোক তাকে হেনস্তা করে এবং সেখান থেকে বের করে দেয়।
এরপর হামলাকারীরা মিলনকে জোর করে স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়ে যায়। সেখানে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান সরকার ওরফে সুফি হুজুর তাকে ভয় দেখিয়ে বলেন যে, মিলনকে তওবা করে হেযবুত তওহীদ ছাড়তে হবে, নতুবা তাকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হবে। মিলন এই সংগঠনের আদর্শের পক্ষে অনড় থাকলে ইমাম সাধারণ মুসল্লিদের সামনে হেযবুত তওহীদ নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে উস্কানি দেন। একপর্যায়ে ইমামের নেতৃত্বেই ৫ থেকে ৭ জন মিলে মিলনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরে মিলনের শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেঁতলে গেছে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী সামসুল হক মিলন বলেন, “আমি শুধু আমার বিশ্বাসের কথা ফেসবুকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যেভাবে আমাকে মসজিদে নিয়ে গিয়ে পশুর মতো মারধর করল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ধর্ম রক্ষার নামে তারা যে ধরণের আচরণ আমার সাথে করেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত কথিত সুফি হুজুরসহ প্রত্যেকের বিচার চাই।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মানুষ বলছেন, রাতে আল্লাহর বিধানের পক্ষে পোস্ট দিয়ে সকালে ধর্মের লেবাসধারীদের হাতে আক্রান্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মিলন ও তার পরিবার ইতিমধ্যে এই হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।