


বিশ্ববাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের প্রভাবে চীনের রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগায় এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাস—জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে—যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বড় ধরনের রদবদল দেখা গেছে। এ সময় শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম, দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ এবং তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে চীন।
পরিসংখ্যান বলছে, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে, তবুও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অবস্থান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে, ভিয়েতনাম ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কের কারণে দেশটির পোশাক রপ্তানি ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের শীর্ষ অবস্থান হারানোর অন্যতম কারণ।
এদিকে, সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিও কমেছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি, শুল্ক আরোপ এবং সরবরাহ চেইনের পরিবর্তনের কারণে তৈরি পোশাক খাতে এই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশ নতুন সুযোগ তৈরি হলেও বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠবে।