Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / গবেষণায় অসামান্য অবদানে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পেলেন অধ্যাপক এম এ রহিম - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকা...

গবেষণায় অসামান্য অবদানে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পেলেন অধ্যাপক এম এ রহিম

April 17, 2026 12:56:03 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
গবেষণায় অসামান্য অবদানে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পেলেন অধ্যাপক এম এ রহিম

গবেষণা ও কৃষি শিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পেয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। তার দীর্ঘ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃষি উন্নয়নে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, জাতীয় উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

অধ্যাপক এম এ রহিম দীর্ঘদিন ধরে কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে কাজ করে আসছেন। তার গবেষণার মাধ্যমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে চারটি উচ্চফলনশীল কাঁঠালের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-১, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-২, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৩ এবং ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৪। এসব জাত ইতোমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ড ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও নিবন্ধন পেয়েছে।

শুধু কাঁঠাল নয়, ফল উন্নয়ন ও কৃষি উদ্ভাবনেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তার গবেষণার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১২৮টিরও বেশি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে বিএইউ কুল বিশেষভাবে আলোচিত। এসব উদ্ভাবন দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণপদক, বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা। সর্বশেষ তিনি ২০২৪ সালে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন, যা তার দীর্ঘ গবেষণা জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

অধ্যাপক এম এ রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণাও শেষ করেন। বর্তমানে তিনি কৃষি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

এ পর্যন্ত তিনি ৪০০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং শতাধিক গবেষক শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধান করেছেন। কৃষি গবেষণায় তার এই অবদান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে।