Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / অর্থনীতি / রাজধানীতে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট, বাজারে চরম অস্থিরতা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

রাজধানীতে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট, বাজারে চরম অস্থিরতা

April 10, 2026 04:49:45 PM   অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট, বাজারে চরম অস্থিরতা

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে কৃত্রিম সংকট, যা নতুন করে দাম বাড়ানোর পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতিতে ভোক্তারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার-সহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলের জন্য ক্রেতাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মিল পর্যায় থেকে সরবরাহ নেমে এসেছে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশে। এতে দৈনিক চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ তেল হাতে পাচ্ছেন তারা।

সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক ক্রেতা চাহিদামতো তেল কিনতে পারছেন না। কোথাও তেল পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের অর্ধেক বা তারও কম পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো কমিশন ও লভ্যাংশ কমিয়ে দেওয়ায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজারে এরই মধ্যে ভোজ্যতেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ঈদের পর থেকেই খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। ফলে বোতলের চেয়ে খোলা তেল কিনতে ভোক্তাদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারি দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব সীমিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের কারণে সাধারণ ভোক্তারা কার্যত চাপের মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বেশি দামে পণ্য কিনে আনার কারণে তারা নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না, ফলে লোকসান এড়াতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য নতুন করে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে ৫ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও যথাক্রমে ১৮৫ টাকা ও ১৭৭ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকলেও খোলা বাজারে ইতোমধ্যে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে তেল। এ পরিস্থিতিকে অনেকে ‘কৃত্রিম সংকট’ হিসেবে দেখছেন, যা দাম বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভোজ্যতেলের বাজারে এমন সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা চলছে। সংগঠনটির মতে, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়, এরপর কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয় এবং সরকার অনেক সময় তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।

ক্যাবের সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে কালোবাজারি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, সরকারকে ব্যবসায়ীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারেন।