


দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় একটি চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে নতুন একটি তেলবাহী জাহাজ। ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা এই জাহাজটি বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে রবিবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছেছে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটিতে মোট ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে, যা দেশের চলমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে তেল সংগ্রহ করে বাংলাদেশে এসেছে এবং এই চালানের জ্বালানি সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। এর আগে গত শুক্রবার আরও একটি জাহাজ ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একই বন্দরে পৌঁছায়, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি খালাস ও বিতরণ করা হবে। এতে বাজারে জ্বালানির কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে বড় পরিসরে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন অকটেন আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ টন এবং কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট থেকে আরও ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, যা বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করে। নির্ধারিত সময়ে কিছু জাহাজ দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয়। নতুন করে বড় চালান আসায় আপাতত জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।