


রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। মুনিরা মাহজাবিন (মিমো) নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও নিহতের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উত্তর বাড্ডার ১০ নম্বর লেনের একটি আবাসিক ভবনের নবম তলার কক্ষ থেকে মুনিরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা মুনিরার কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানান। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই নোটে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল—একজন ‘স্যার’-কে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা, পাশাপাশি কিছু ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বার্তাও ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজন হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক শিক্ষক ও নিহতের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করছি। প্রাথমিকভাবে কিছু আলামত পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহত মুনিরা মাহজাবিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ডাইয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফার মেয়ে। উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। পরিবারে দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।
এই ঘটনায় আত্মহত্যার পেছনে ব্যক্তিগত, মানসিক নাকি আর্থিক কোনো চাপ কাজ করেছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চলমান তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।