


পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে চুল ধরে কিলঘুষি ও তলপেটে লাথি মারার পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এনজিও কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগম (৩৫) কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) হাসপাতালের শয্যা থেকে খাইরুন বেগম অভিযোগ করে বলেন, কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার স্বামী নজির মোল্লা গত বছর কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কর্মসূত্রে কুয়েতে যান। বিদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি নিয়মিত টাকা পাঠাতে না পারায় কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে কোডেকের ধানখালী শাখার ব্যবস্থাপক মনির হোসেনসহ আরও দুই নারী কর্মী তাদের বাড়িতে যান কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য। বাড়িতে টাকা না থাকায় পরিশোধে ব্যর্থ হলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী নারী।
খাইরুন বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চুল ধরে টানা, কিলঘুষি ও তলপেটে লাথি মারা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাইরুন বেগম এখন পর্যন্ত দুই হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করেছেন, তবে তার কাছে এখনও প্রায় ৩৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ব্যবস্থাপক মো. মনির হোসেন। তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।