


ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ের পর স্ত্রীকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এনে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকায় এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত প্রান্ত শেখ (২২) ওই এলাকার মুজিবর শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্পিগঞ্জ ইউনিয়নের রোকিয়া বেগমের সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয় প্রান্ত শেখের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় দেড় মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
ভুক্তভোগী রোকিয়া বেগম জানান, শুক্রবার রাতে প্রান্ত তাকে গাজীপুর থেকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন। রাত ২টার দিকে মধুখালী রেলগেট এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে তাকে কুরানিয়ার চর গ্রামের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যান।
সেখানে রাতভর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন রোকিয়া। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এমনকি চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি তার।
প্রাণ বাঁচাতে কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন রোকিয়া। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশকে খবর দেন। গ্রাম পুলিশ তাকে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গেলে সবার সামনে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।”