


বলিউডের কালজয়ী সিনেমা দেবদাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী দানানির মোবিন। জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্রটিকে ওভাররেটেড বা অতিরিক্ত প্রশংসিত আখ্যা দেওয়ার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে দানানির মোবিন এমন একটি ক্লাসিক সিনেমার নাম বলতে বলা হলে, যেটিকে তিনি অতিরিক্ত প্রশংসিত মনে করেন, তখন সরাসরি দেবদাস–এর নাম উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ছবিটির জাঁকজমকপূর্ণ সেট, পোশাক ও নির্মাণশৈলী প্রশংসার যোগ্য হলেও গল্পের মূল বার্তা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। তার ভাষায়, গল্পে একজন মদ্যপ পুরুষ, আত্মসম্মানহীন নারী এবং পারিবারিক চাপে তৈরি সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে, যা তার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে।
অভিনেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন সিনেমাটিতে নেশা ও আত্মবিধ্বংসী আচরণকে এতটা নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় ও পাকিস্তানি দর্শকদের বড় একটি অংশ তার সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী ও সিনেমাপ্রেমীদের অনেকে দাবি করেন, দেবদাস কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়–এর বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক সৃষ্টি।
নেটিজেনদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট না বুঝেই দানানির এমন মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত হলেও ক্লাসিক সাহিত্য ও সিনেমা নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল।
২০০২ সালে নির্মিত দেবদাস চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন সঞ্জয় লীলা ভানসালি। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রাই এবং মাধুরী দীক্ষিত। মুক্তির পর এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বলিউডের অন্যতম ক্লাসিক সিনেমা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
অন্যদিকে দানানির মোবিন পাকিস্তানের জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রীদের একজন। তিনি ‘সিনফ-ই-আহান’, ‘মুহাব্বাত গুমশুদা মেরি’ এবং ‘ভেরি ফিল্মি’র মতো নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন।