Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / গাজীপুরে ইমামকে ঘিরে অপহরণকাণ্ড, মাদরাসাছাত্রী উদ্ধার-গ্রেপ্তার ৭ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

গাজীপুরে ইমামকে ঘিরে অপহরণকাণ্ড, মাদরাসাছাত্রী উদ্ধার-গ্রেপ্তার ৭

April 19, 2026 04:20:36 PM   অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুরে ইমামকে ঘিরে অপহরণকাণ্ড, মাদরাসাছাত্রী উদ্ধার-গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরের শ্রীপুরে মসজিদের এক ইমামকে ঘিরে মাদরাসাছাত্রী অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত যুবক এখনও পলাতক রয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসায় সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাত্রী শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার স্টেশনের কাছ থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় যুবক আবিদের নাম উল্লেখ করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের পরদিন সকালে ওই যুবক ছাত্রীকে তার বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকে ওঠে। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়া হয় এবং তার স্বজনদের মারধর করা হয়।

ঘটনার পরদিন ছাত্রীর বাবা শ্রীপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যেখানে আবিদসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে নয়নপুর এলাকা থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুইজনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত আবিদ এখনো পলাতক রয়েছে।

উদ্ধারের পর ছাত্রী গণমাধ্যমে ভিন্ন দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল নোটারির মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয় এবং পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে না নিয়ে তাকে জোর করে আটকে রাখে। পরে তিনি নিজেই অভিযুক্ত যুবককে ফোনে ডেকে আনেন, যিনি এসে তাকে নিয়ে যান।

অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই কিশোরী তার বাবার অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। পরবর্তীতে আদালত তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এ ঘটনায় অপহরণ নাকি পারিবারিক বিরোধ—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।