


গাইবান্ধা সংবাদদাতা:
গাইবান্ধায় বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জনসেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে সততা ও মূল্যবোধ বজায় রাখার লক্ষ্যে এক গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এই গণশুনানীতে গাইবান্ধার ৩২টি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের বিরুদ্ধে আসা মোট ৯৭টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি জবাবদিহিতা নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের নানা ধরণের হয়রানি ও বঞ্চনার কথা সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুদকের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব এবং জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এম. আব্দুস সালাম এতে অংশ নেন। সভার শুরুতে রংপুর দুদকের নুর বকস্ বাবুল পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং কমিটির সদস্য উজ্জল চক্রবর্তী গীতা পাঠ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, দেশে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। তিনি বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপরও জোর দেন। সচিব আরও বলেন, সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলোতে সেবার মান বাড়িয়ে এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও হয়রানি বন্ধে দেশের প্রতিটি জেলায় নিয়মিত এমন গণশুনানীর আয়োজন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সুধীজনরা দুদকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নিয়মিত এমন আয়োজন করার দাবি জানান যাতে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।