Date: May 11, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / কিশোরীকে টিকটক তারকা বানানোর প্রলোভনে পতিতালয়ে বিক্রি! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

কিশোরীকে টিকটক তারকা বানানোর প্রলোভনে পতিতালয়ে বিক্রি!

May 11, 2026 09:15:04 PM   অনলাইন ডেস্ক
কিশোরীকে টিকটক তারকা বানানোর প্রলোভনে পতিতালয়ে বিক্রি!

ফরিদপুরে এক কিশোরীকে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে দুটি ধারায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আদল কাজীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে এ ধারাতেও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামে আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদল কাজী একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের কৌশলে এনে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে অপর আসামি সুমনের সঠিক পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।