


সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু ঘটে। ফুজিরা প্রদেশের আল রিফা এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জিরোইনের হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে মো. শাহ আলম ভূঁইয়া নিহত হন। এই ঘটনায় আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শাহ আলম কর্মরত অবস্থায় ছিলেন ফুজাইরা আল রিফা এলাকায় অবস্থিত একটি কৃষি খামারে। ঠিক তখন ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে। যদিও ড্রোনটি আকাশে ধ্বংস করা হয়, এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে খামার এলাকায় আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহতের বাড়ি কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জিরোইন এলাকায়। তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী হিসেবে জীবনযাপন করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, শাহ আলম একজন পরিশ্রমী এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এর আগে আজমান প্রদেশে সালেহ উদ্দিন (ওরফে আহমদ আলী) নামে আরও এক বাংলাদেশি একই ধরনের ঘটনায় নিহত হন। এই দুইজন বাংলাদেশি নিহতের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট ১২ জন নিহত এবং ১৯০ জন আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
নিহতের খবর পেয়ে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেটের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহ শনাক্তকরণ শেষে দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য, চলমান এই সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী ৪৩৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ১৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ২০১২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হলেও সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের ওপর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এ ধরনের ঘটনা সামলানো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।
এই মর্মান্তিক ঘটনার ফলে বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ শোকাহত এবং দেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা আতঙ্কে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই সংঘাতের প্রভাব ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।