


জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজনটি।
জাপানের টোকিও-এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিও মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি কূটনীতিক ও স্থানীয় অতিথিদের অংশগ্রহণে দূতাবাস প্রাঙ্গণ এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী উপস্থিত সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ একটি সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব, যা ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্রাট আকবরের শাসনামল থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে জাপানের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি ও নববর্ষ উদযাপনের ঐতিহ্যের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের চেতনার সাদৃশ্যের কথাও তুলে ধরেন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ আকর্ষণ ছিল দূতাবাস পরিবারের সদস্যদের সমবেত সংগীত এবং টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ (টিইউএফএস)-এর বাংলা বিভাগের জাপানি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ‘আমি বাংলার গান গাই’ গানটি, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।

এছাড়া গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য এবং জাপানি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাপানি গান দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ও নানা রকম দেশীয় খাবার। পাশাপাশি মেহেদি উৎসব, মুখোশ, সরাচিত্র, আলপনা ও গ্রামীণ বাদ্যযন্ত্রের সাজসজ্জা অতিথিদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, জাপান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। সবার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক আনন্দঘন আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।