


অবশেষে নিবন্ধনের পথে ‘আমজনতার দল’ ও ‘জনতার দল’। টানা ১২৫ ঘণ্টা আমরণ অনশন, চাপ, আলোচনার দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুই দলকেই নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
নিবন্ধন না পাওয়ায় ‘আমজনতার দল’-এর সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান গত ৪ নভেম্বর থেকে নির্বাচন ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন। শীতের মধ্যে ক্রমাগত শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলেও নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন তিনি। তার দাবি ছিল—দলের সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। একই সময়ে ‘জনতার দল’ও নিবন্ধন প্রত্যাশী তালিকায় নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কয়েকটি নতুন দল আবেদন করলেও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনী সংস্থা সীমিত সংখ্যক দলকে নিবন্ধনের জন্য চূড়ান্ত করে। সেই তালিকায় দুটি দলের নাম না থাকায় সমালোচনা বাড়তে থাকে। অনশনের সময় তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার কর্মী এবং সুশীল সমাজ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানায়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক জরুরি বৈঠকে নতুন করে কয়েকটি দলের আবেদন পুনর্মূল্যায়ন করে। এই পুনর্বিবেচনার ফলেই ‘আমজনতার দল’ ও ‘জনতার দল’ নিবন্ধন পাওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ইসির এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে দল দুটির আগাম উপস্থিতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।