


কুষ্টিয়া (ভেড়ামারা) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে (৪০) হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা থানার হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন।
গত ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জর্ডান প্রবাসী সোহেল রানাকে চরম নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তার দেহ বিবস্ত্র করে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে তাকে ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় তার পরিবার অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেছিল।
পুলিশ এই মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো: সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো. শাওন। এদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তুষার ও খোকনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই খুনের পরিকল্পনা হয় হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিন। সোহেল রানার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুজন কানা তার বাড়িতে এই দলটিকে নিয়ে মিটিং করে। খুনের জন্য মোট ৫০ হাজার টাকা চুক্তি হয় এবং অগ্রিম হিসেবে মহিনকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় লিমন ও মহিন কৌশলে সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে নির্জন মাঠের রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই হাসুয়া, রড ও ছুরি নিয়ে ওৎ পেতে ছিল জাবুল ও তুষার। তুষার প্রথমে হাসুয়া দিয়ে সোহেলের মাথায় আঘাত করে। এরপর অন্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মহিন তার গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর তারা পেট্রোল ও পাটখড়ি দিয়ে তার মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দেয় যাতে তাকে চেনা না যায়। খুন শেষে প্রমাণ হিসেবে মোবাইলে ছবি তুলে তারা সুজন কানার বাড়িতে গিয়ে বাকি টাকা সংগ্রহ করে এবং সবাই ভাগ করে নেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, তদন্তের তথ্যের সাথে আসামিদের জবানবন্দি পুরোপুরি মিলে গেছে। তবে মূল পরিকল্পনায় থাকা সুজন কানা জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েও পরে পিছিয়ে গেছে। সুজন কানাকে কারা মাদক সরবরাহ করত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মামলার আরও কিছু রহস্য উদঘাটন হওয়া এখনো বাকি আছে। পুলিশ পলাতক বাকি আসামিদের ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরণ এর অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।