


নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২ নম্বর সহসভাপতি পদে সজীব পাল জুম্মনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তার স্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্ট ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে সংগঠনের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে, বিশেষ করে ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত ১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তালিকায় ২ নম্বর সহসভাপতি হিসেবে সজীব পাল জুম্মনের নাম প্রকাশিত হয়। কমিটি প্রকাশের পরই তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট দেন, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টে তিনি স্বামী ও নিজের একটি ছবি এবং কমিটির তালিকা যুক্ত করে লেখেন, “প্রাণঢালা অভিনন্দন জামাই। নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের ২নং সহ-সভাপতি।”
এই পোস্টকে কেন্দ্র করে অনলাইনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত আনন্দের প্রকাশ হিসেবে দেখলেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে বিদ্রূপ ও সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যদিও এ নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কমিটিতে স্থান না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে এমন ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না। এমনকি কিছু প্রবাসে অবস্থানরত ব্যক্তির নামও কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাঈনউদ্দিন ভূঁইয়া এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার ত্যাগীদের মূল্যায়নের কথা বললেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি। তার মতে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়াচ্ছে।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকেই শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।