


বোরহান উদ্দিন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় চার বছর আগে নির্মাণ করা হয় দুই তলাবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন। ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, ভবনটির দোতলায় ওঠার জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো সিঁড়ি। ফলে দোতলার কক্ষগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। আর নিচতলার কক্ষগুলোতেই গাদাগাদি করে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ভবনটি নির্মাণে চার দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু ভবনের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দোতলায় ওঠার জন্য কোনো সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ভবনের উপরের তলার কক্ষগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বর্তমানে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে আলাদা শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে এক শ্রেণির শব্দ অন্য শ্রেণিতে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সবুজ মণ্ডল জানায়, নতুন ভবনের কক্ষ ব্যবহার করতে না পারায় তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো বসার সুযোগও থাকে না।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মণ্ডল বলে, “আমাদের বিদ্যালয়ে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি না থাকায় এক ক্লাসে গাদাগাদি করে বসতে হয়। এক শ্রেণিকক্ষের শব্দ অন্য শ্রেণিতে শোনা যায়। ফলে আমরা ঠিকমতো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারি না।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু ভবন সংকটই নয়, বিদ্যালয়ে সুপেয় পানিরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন না করে অর্থের অপচয় করা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধাপে ধাপে বরাদ্দ নেওয়ায় এমনটি হয়েছে হয়তো। এককালীন বরাদ্দ হলে এটা ঘটত না। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। ”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, সেটি যেন পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।