


নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ডাকাতি প্রতিরোধে টহল দিতে গিয়ে নৌ পুলিশের একটি নৌযান বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মো. মহসিন সরদার (৪৩) নামে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নদীপথে নিরাপত্তা অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগস্থল, শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার (৮ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবউজ্জামান।
নিহত কনস্টেবল মহসিন সরদার খুলনার পাইকগাছা থানার গোয়ালপুর গ্রামের আব্দুল করিম সর্দারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর নৌ-বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কলাগাছিয়া নৌ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকাতি প্রতিরোধ ও নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এসআই মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টহল দল নদীতে বের হয়। টহল চলাকালীন শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি বাল্কহেডের সঙ্গে তাদের নৌযানের সংঘর্ষ হয়। এতে টহল নৌযানটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর তিন পুলিশ সদস্য সাঁতরে পাশের একটি বাল্কহেডে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে মহসিন সরদার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলাগাছিয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ সালেহ আহমদ পাঠান জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশের কোনো অস্ত্র খোয়া যায়নি। তবে বাল্কহেড ও তার চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
নৌ পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে যান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিহত কনস্টেবলের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
নদীপথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় নৌ পুলিশের একজন সদস্যের মৃত্যু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।