


জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা না করে সরকার নিজস্বভাবে সংসদ পরিচালনা করেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের শেষ সেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা আলোচনায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ আরও অনেকে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেশে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই চলছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশা থাকলেও তা পূর্ণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে বলেন, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা দলগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতায় এলে সংবিধানকে নিজের মতো পরিবর্তন করার প্রবণতা রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য নষ্ট করে। এ কারণে উচ্চকক্ষ গঠন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো বিষয়গুলো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, মূলনীতি পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা দিতে পারবে না এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে যেসব বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো নোট অব ডিসেন্ট আকারে সংরক্ষণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়। জুলাই সনদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের পথে যদি বারবার বাধা আসে, তাহলে জনগণকে আবারও রাজপথে নামতে হয়—যা তিনি চান না। তাই একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কার প্রক্রিয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।