Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / প্রবাস / স্ত্রীকে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হলেন বাংলাদেশি ছাত্র - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

স্ত্রীকে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হলেন বাংলাদেশি ছাত্র

April 21, 2026 10:09:30 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্ত্রীকে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হলেন বাংলাদেশি ছাত্র

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়তু চৌধুরী। কিন্তু আইনি জটিলতা ও অভিবাসন ব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। দুই মাস ডিটেনশন সেন্টারের ‘অমানবিক’ পরিবেশে কাটানোর পর শেষ পর্যন্ত লড়াই ছেড়ে দিয়ে স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখেই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে বাধ্য হন তিনি।

২৪ বছর বয়সী জয়তু চৌধুরী ২০২১ সালে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ফিন্যান্স ও কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করছিলেন। ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনজনিত জটিলতায় ২০২৫ সালের আগস্টে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, যা তাকে আইনি সংকটে ফেলে।

এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও ওঠে—যার মধ্যে রয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং চুরির মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এসব কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়।

সেখানে কাটানো সময়টাকেই জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন জয়তু। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুরুতে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং তার মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার আশা ছাড়েননি। কিন্তু ডিটেনশন সেন্টারের পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে অসহায় ও নিঃস্ব মনে করতে থাকেন, একসময় আর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি পাননি।

জয়তুর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা এমনভাবে কাজ করে, যা অনেক সময় বন্দিদের মানসিকভাবে চাপে ফেলে দেয় এবং তারা লড়াই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে তার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয় এবং সব বন্দির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয়।

জয়তুর দেশে ফেরার প্রক্রিয়াও বিতর্কের জন্ম দেয়। ডিএইচএস দাবি করেছে, পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকারিভাবেই তার বিমান ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বর্তমানে জয়তু বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তবে দেশে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করাও তার জন্য সহজ হচ্ছে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উপযুক্ত কাজ খুঁজে পাওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরও এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার পরিচিতজনরা তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন। ‘ম্যারি এলিজ’ নামে এক ব্যক্তি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য আইনি সহায়তার মাধ্যমে জয়তুকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটানো।

জয়তুর গল্প একদিকে যেমন অভিবাসন ব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে, অন্যদিকে একজন তরুণ শিক্ষার্থীর ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন ও সংগ্রামের নির্মম চিত্রও সামনে আনে। ডিটেনশন সেন্টারের সেই দুই মাস তার জীবনে এক স্থায়ী দাগ হয়ে থাকবে, যা সহজে মুছে যাওয়ার নয়।