


বোরহান উদ্দিন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীতে অস্ত্র হাতে এক যুবকের বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ছবিগুলো ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
জানা গেছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্র হাতে হাতে থাকা ওই যুবকের নাম মোঃ চান্নু সরদার। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম কালিতলা এলাকার কাশেম সরদারের ছেলে।
এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, মো. চান্নু সরদার বেশ কিছু দিন ধরে এলাকায় নেই। তিনি বর্তমানে ঢাকাতে রয়েছেন। ঢাকায় যাওয়ার আগে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খানের ছেলে শাহনেওয়াজ খান শুভ' সাথে মাঝে মধ্যে দেখা যেতো। অস্ত্র হাতে ছড়িয়ে পড়া ছবি কয়েক বছর আগের হবে হয়তো। তবে চান্নুর কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, ছবিগুলো মনে হয় অনেক আগের। আমাদের এলাকায় রাজনৈতিক গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। সে জন্য আমাদের সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মহল বলছে, এসব অস্ত্র দিয়ে নিজ এলাকাসহ পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক। তবে ওইসকল যুবকদের নাম প্রকাশ করেননি তারা। নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষা করে ওই নামগুলো প্রশাসনের কাছে দেবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
ছবিতে অস্ত্র হাতে থাকা চান্নু সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তা রিসিভ হয়নি। তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি নিয়ে তিনি তার 'মোঃ চান্নুর রহমান' ফেসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট করেছেন। তিনি তার পোষ্টে লিখেছেন, সাধারণ মানুষেরও এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হচ্ছে, বর্তমানে Ai প্রযুক্তি দ্বারা যে কোন মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আওয়ামীলীগ সরকার পতন হওয়ার পর থেকেই আমি কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকাতে আছি। একজনের সঙ্গে একজনের বন্ধুত্ব থাকতেই পারে এর কারণে আমাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে একটি মহল। Ai প্রযুক্তি দিয়ে আমার হাতে ও মুখের মধ্যে অস্ত্র লাগিয়ে দিয়ে আমাকে হয়রানি করানোর জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রের ছবির বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতি মধ্যে কাজ শুরু করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ শুরু করা হবে।