Date: May 20, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ময়মনসিংহ / ময়মনসিংহে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ ঘর পুড়ে ছাই, অক্ষত রইল পবিত্র কোরআন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ময়মনসিংহে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ ঘর পুড়ে ছাই, অক্ষত রইল পবিত্র কোরআন

May 19, 2026 07:54:17 PM   অনলাইন ডেস্ক
ময়মনসিংহে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ ঘর পুড়ে ছাই, অক্ষত রইল পবিত্র কোরআন

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে সাতটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ সবকিছুই আগুনে ধ্বংস হলেও আশ্চর্যজনকভাবে পবিত্র কোরআন শরীফের কিছু অংশ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ী গ্রামের খন্দকার পাড়া এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম-এর টিনশেড ঘর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের একাধিক ঘর গ্রাস করে নেয়।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং আশরাফুল ইসলামের চারটি ঘর ও মিতু আক্তারের তিনটি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরের ভেতরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং আসবাবপত্র সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এক পরিবার প্রায় দুই লাখ টাকা নগদ অর্থসহ সব সম্পদ হারিয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পবিত্র কোরআন শরীফের কিছু পৃষ্ঠা আংশিক পুড়ে গেলেও ভেতরের লেখাগুলো অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দেখে স্থানীয়রা বিস্মিত হন।

ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল ইসলাম বলেন, তার পরিবারের সবকিছুই আগুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে কোরআন শরীফ অক্ষত থাকায় তিনি মানসিকভাবে কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ খন্দকার জানান, আগুনে পুরো এলাকা নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে একদিকে যেমন পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়েছে, অন্যদিকে পবিত্র কোরআন অক্ষত থাকার ঘটনাটি এলাকায় গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।