


তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে দেখা করার আশায় কেরালার এক দম্পতির ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেরালার মালাপ্পুরম থেকে চেন্নাই পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাত্রা করা এই দম্পতির ভক্তির গল্প অনলাইনে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
সোমবার (১১ মে) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। দীর্ঘ এই যাত্রা শুরু হয় গত ৭ মে, কেরালার মালাপ্পুরম জেলার তানুর এলাকা থেকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ রাফি এবং তার স্ত্রী সি.পি. উম্মু শাহানামোল-এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে থালাপতি বিজয়ের ভক্ত। বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান, দল গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছা আরও প্রবল হয়ে ওঠে তাদের মধ্যে।
এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়ার। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর আগেই বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তারা থেমে যাননি, বরং যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
পেশায় চালক মোহাম্মদ রাফি এবং তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্লগ তৈরি করেন। যাত্রাপথে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভিডিও আকারে শেয়ার করছেন, যা ইতোমধ্যে অনেকের নজর কেড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তারা ব্যাগ, তাঁবু ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে মহাসড়ক ধরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন।
তাদের দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী, সকালে হাঁটা শুরু করে রাত হলে নিরাপদ স্থানে বিশ্রাম নেন এবং পরদিন আবার ভোরে যাত্রা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য তামিলনাড়ু পেরিয়ে চেন্নাই পৌঁছানো।
এক সাক্ষাৎকারে দম্পতি জানান, বিজয়ের সিনেমার চরিত্র ও তার ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক যাত্রা এবং নির্বাচনী বিজয় তাদের ভক্তিকে আরও গভীর করে তোলে। তাই সরাসরি দেখা করার উদ্দেশ্যে এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন তারা।
তবে বিজয়ের সঙ্গে দেখা করার কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা না থাকলেও তারা আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ পাবেন।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে “ভক্তির চূড়ান্ত উদাহরণ” বলে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি থালাপতি বিজয়ের প্রতি ভক্তদের আবেগের এক অনন্য প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। গত ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।