Date: May 08, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / বিজয়ের দলের বিধায়করা পদত্যাগের ইঙ্গিত দিলেন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বিজয়ের দলের বিধায়করা পদত্যাগের ইঙ্গিত দিলেন

May 08, 2026 11:53:45 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিজয়ের দলের বিধায়করা পদত্যাগের ইঙ্গিত দিলেন

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার গঠন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে-ডিএমকে বা এআইএডিএমকে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাদের সব বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারা ও জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।

সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই টিভিকে এই কঠোর অবস্থান নেয়। দলের আশঙ্কা, দুই প্রধান দ্রাবিড় দল একত্র হয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে, যার মাধ্যমে সর্বাধিক আসন পাওয়া সত্ত্বেও টিভিকেকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হতে পারে।

নির্বাচনে ১০৭টি আসন পেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে টিভিকে। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১১৮টি আসন। ফলে দলটি এখন সমর্থন জোগাড়ের জন্য বামপন্থী দল ও ছোট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পাঁচজন বিধায়কসহ টিভিকেকে সমর্থন জানিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটছে না। রাজ্যপাল আর. এন. রবি বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেননি। তার যুক্তি, টিভিকের কাছে এখনো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নেই। রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, গভর্নর স্পষ্ট করে দিয়েছেন-সরকার গঠনের আগে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থনপত্র জমা দিতে হবে।

রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কোনো দলই পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি, ফলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে টিভিকের দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে তাদেরই সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাওয়া উচিত। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, রাজনৈতিক সমীকরণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে।

ডিএমকে শিবির বলছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য নতুন নির্বাচন এড়ানো এবং একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঠেকানোও তাদের অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিএমকে তাদের সব বিধায়ককে ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, এআইএডিএমকের নেতা এডাপ্পাদি কে. পলানিস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে ডিএমকে শিবিরে। তবে দলটির ভেতরে এই ধরনের জোট নিয়ে দ্বিধা ও উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল একত্র হলে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

টিভিকের মিত্র হিসেবে থাকা কিছু দল গভর্নরের অবস্থান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তাদের মতে, শপথের আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের দাবি অনুচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরো পরিস্থিতি এখন জটিল ক্ষমতার অঙ্কে পরিণত হয়েছে, যেখানে কোনো দলই পরিষ্কারভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪টি, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি। সর্বশেষ ফলাফলে টিভিকে পেয়েছে ১০৭টি আসন, ডিএমকে ৭৩টি, এআইএডিএমকে ৫২টি এবং অন্যান্যরা পেয়েছে বাকি আসনগুলো।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা এবং জোট রাজনীতির নতুন সমীকরণ একসঙ্গে কাজ করছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের ক্ষমতার কাঠামো বদলে দিতে পারে।