


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বিকল্প প্রার্থী নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী পরিবেশ পর্যালোচনা করেই শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মূল প্রার্থীর পাশাপাশি কিছু আসনে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ পরিবর্তন বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে বিকল্প প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে দলীয়ভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিকল্প প্রার্থী থাকা মানেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিএনপি এখনো নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন, ভোটের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অনড় অবস্থান বজায় রাখছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, বিএনপি অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। দুটি আসনে প্রার্থীরা দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে ঝুঁকিতে পড়েছেন, আরেকটি আসনে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ হওয়ায় বিকল্প প্রার্থী বিবেচনায় আনা হয়েছে। এছাড়া নতুন কোনো জটিলতা দেখা দিলে ২০ জানুয়ারির মধ্যে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সামনে আনার কৌশলও রাখতে পারে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিকল্প চিন্তা থেকেই বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। সমস্যার সম্ভাবনা থাকা আসনগুলোর বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের আপিল ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ সময়ে যেসব আসনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বা হতে পারে, সেই আসনে রাখা বিকল্প প্রার্থীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এছাড়া কিছু আসনে প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিলের ফলাফলের ওপরও নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ছয়টি আসনে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি আসনে ইতিমধ্যে বিকল্প প্রার্থীকেই চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি পাঁচটি আসনে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে—সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল। বগুড়া-২ আসন মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছাড়লেও বিকল্প হিসেবে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কবির আহমেদ ভূঁইয়া।
এই আসনে ঘোষিত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধতার বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জহিরুল হক চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ১৮ জানুয়ারি এ আপিলের নিষ্পত্তি হবে। বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে বিকল্প প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়েও শীর্ষ নেতৃত্ব বিবেচনা করছে। একইভাবে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি অভিযোগ করেছেন, হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় গোপন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিকল্প প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে দলীয়ভাবে ঐকমত্য হয়েছে। শুরুতে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বয়স ও দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে শীর্ষ নেতৃত্ব বিকল্প প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ অভিযোগে তাঁকে মানতে নারাজ, তারা ঘোষিত প্রার্থী আনিসুল হকের পাশে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে যশোর-৪ আসনে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।