


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও নাজুক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে চীন সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অচলাবস্থায় থাকা আলোচনা এবং আঞ্চলিক সংকট নিরসনে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে তার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) তেহরান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় চীন এখন সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে এই সফর কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পরপরই অঞ্চলজুড়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে এবং সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও মধ্যস্থতার উদ্যোগে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
তবে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। উভয় পক্ষই সরাসরি সংঘর্ষে না জড়ালেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে চীন সফরকে ইরানের একটি কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এই সফর নতুন কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি এনে দিতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আল-জাজিরা