


আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। এই সফরকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা, যেখানে আঞ্চলিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ করে। এই সফরকে দুই দেশের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধি দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
সফর সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় আব্বাস আরাগচি জানান, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে সমন্বিত আলোচনা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদে আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া ও ওমান সফর করবেন। এই ধারাবাহিক সফরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আল জাজিরার বরাতে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ বা সরাসরি সংলাপ পুনরায় শুরু করার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করা।
এদিকে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদেরও সফরের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে আসবেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে অবস্থানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।