


শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে ভয়াবহ সাইবার হামলায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত এই অর্থ ই-মেইল সিস্টেমে কারসাজির মাধ্যমে অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয় হ্যাকাররা। ঘটনার দীর্ঘ সময় গোপন থাকলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যা দেশটির অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার একটি দ্বিপক্ষীয় ঋণ পরিশোধের জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থ পাঠানোর সময় নির্ধারিত ছিল। তবে শ্রীলঙ্কা সরকার আগেভাগেই অর্থ স্থানান্তর করলেও জানুয়ারিতে সাইবার অপরাধীরা ই-মেইল যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে পেমেন্ট নির্দেশনা পরিবর্তন করে দেয়। এর ফলে প্রকৃত অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে ভিন্ন একটি ব্যাংক হিসাবে অর্থটি চলে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হর্ষণা সুরিয়াপ্পেরুমা জানান, এ ঘটনায় সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, সাইবার হামলার উৎস ও হ্যাকারদের পরিচয় জানতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ই-মেইল সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরো অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। এরপরই পুরো প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে।
শ্রীলঙ্কার উপ-অর্থমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো জানিয়েছেন, শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, ভারতকে পরিশোধের জন্য নির্ধারিত অর্থও হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। ব্যাংক তথ্যের অসংগতি ধরা পড়ার পর কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয় এবং তদন্তে নামে।
এটি শ্রীলঙ্কার জন্য একটি বড় সাইবার নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ মাত্র কয়েক বছর আগেই দেশটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল, যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শূন্য হয়ে যায় এবং সরকার ঋণখেলাপি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। সেই সংকটের সময় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতিতে দেশজুড়ে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে পদত্যাগ করেন।
কলম্বোয় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ম্যাথিউ ডাকওয়ার্থ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অর্থ পরিশোধে অনিয়মের বিষয়টি তারা অবগত এবং শ্রীলঙ্কার তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা করছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই সাইবার প্রতারণা বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়। এমনকি স্থানীয় গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়েছিল। তবে সেই সতর্কতার মধ্যেই নিজ অর্থ মন্ত্রণালয়েই বড় ধরনের এই সাইবার চুরির ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে।