


দেশজুড়ে তীব্র গরমে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই নীরবে বাড়ছে প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি—হিট স্ট্রোক। শুধু অস্বস্তি বা ক্লান্তিই নয়, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই এই সময়টাতে সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়।
হিট স্ট্রোক মূলত তখনই ঘটে, যখন শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং শরীর নিজে থেকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে এটি বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ সময় অনেক ক্ষেত্রে ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, যা একটি বড় সতর্ক সংকেত। পাশাপাশি মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়া দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো কখনো অসংলগ্নভাবে কথা বলতে পারেন বা আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যায় এবং গুরুতর অবস্থায় খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর ঘটনাও ঘটতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রথমেই রোদ বা গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ঠাণ্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিতে হবে। শরীরের অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিয়ে ঠাণ্ডা পানি বা বরফ-পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে, বিশেষ করে বগল, ঘাড় ও কুঁচকির মতো জায়গায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যদি রোগী সচেতন থাকেন, তবে তাকে পানি, ডাবের পানি বা খাবার স্যালাইন খাওয়ানো যেতে পারে, যাতে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়। রোগীকে শুইয়ে পা সামান্য উঁচু করে রাখলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে যদি রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বা অবস্থার অবনতি ঘটে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন হলে ছাতা, হ্যাট বা সানগ্লাস ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পর্যাপ্ত পানি রাখা এই সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তাই নিয়মিত পানি, শরবত বা ডাবের পানি পান করতে হবে। বাইরে বের হলে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরা উচিত, যা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া প্রচণ্ড গরমে ভারী কাজ বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো। চা, কফি বা সিগারেটের মতো পানিশূন্যতা বাড়ায় এমন অভ্যাস কমিয়ে দেওয়া উচিত এবং সহজপাচ্য, শরীর ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই তীব্র গরমে সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।