


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার পথে দুঃসংবাদ পেয়েছেন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা। তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু ভোটার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পর তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে তাসনিম জারা এই ঘোষণার বিপরীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ডা. তাসনিম জারা গত ২৭ ডিসেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার প্রেক্ষাপটে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। পেশাগতভাবে তিনি চিকিৎসক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।
তাসনিম জারার হলফনামা অনুযায়ী, তার আয়ের মূল উৎস চাকরি। দেশের ভেতরে তিনি বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা আয় করেন। এছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে দেশীয় আয় ২৬৪ টাকা এবং দেশের বাইরে একই খাত থেকে তার আয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নেও এই আয় বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্পদের দিক থেকে দেখা যায়, তাসনিম জারার স্থাবর সম্পদ নেই। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১০ হাজার ১৯০ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকার সমপরিমাণ সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা এবং আয়কর প্রদানের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার ঘটনা রাজধানীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে অবৈধ ঘোষণার ফলে নির্বাচনী দৌড়ে তার পথ আপাতত বন্ধ। আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করবেন।
এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের মনোযোগ এখন তাসনিম জারার আপিলের ফলাফলের দিকে কাঁদাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ না হলে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।