


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগকারী প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)কে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের। তিনি দাবি করেছেন, এই দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের “ফুল টাইম পেইড এজেন্ট” হিসেবে কাজ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের।
তিনি তার পোস্টে সদ্য পদত্যাগকারী দুই প্রক্টরিয়াল সদস্যের ছবি যুক্ত করে তাদের কর্মকাণ্ড ও ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
আব্দুল কাদের তার পোস্টে লেখেন,
ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) পদত্যাগ করেছেন। তিনি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানান এবং বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রক্টরিয়াল টিম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বলে তার বিশ্বাস, তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে পুরোপুরি সফল হতে পারেননি।
তবে তার অভিযোগের মূল অংশে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তারা পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দিয়েছেন। তার মতে, তারা দলীয় চাপ বা নিয়োগের কারণে বিভিন্ন সময়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারসাম্য ও শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করেছে।
আব্দুল কাদের আরও লেখেন, কেউ কেউ প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি “পার্ট টাইম সহকারী প্রক্টর এবং ফুল টাইম পেইড এজেন্ট” হিসেবে কাজ করেছেন-এমন অভিযোগও তিনি তোলেন।
একই সঙ্গে তিনি পদত্যাগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের কিছু শিক্ষার্থী-বান্ধব উদ্যোগের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নবনিযুক্ত প্রক্টরের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নতুন প্রশাসন যেন পেশাদারিত্ব বজায় রেখে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কাজ করে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ পদত্যাগ করেন এবং তার স্থলে দায়িত্ব পান চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ইসরাফিল রতন প্রামাণিক। এর একদিন পরই সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)ও পদত্যাগ করেন।
এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের পরই ক্যাম্পাস প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।