Date: May 20, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / রাজনীতি / জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে এনসিপি- রাশেদ খান - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে এনসিপি- রাশেদ খান

May 19, 2026 12:37:00 PM   অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে এনসিপি- রাশেদ খান

জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় গিয়ে এনসিপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, একসময় যারা জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিল, তারাই এখন সেই দলের সঙ্গে জোটে গিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভূমিকাও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এমন কোনো দলের সঙ্গে জোট করা হবে না যাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের দায় রয়েছে। একইভাবে এনসিপির আরেক নেতা পাটোয়ারীও জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

রাশেদ খানের প্রশ্ন, যারা একসময় জামায়াতকে দেশের জন্য হুমকি বলেছিল, তারা এখন কীভাবে সেই দলের সঙ্গে জোটে যায়? তার মতে, এটি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে যাওয়ারই প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, এই অবস্থানের মাধ্যমে এনসিপি রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।

নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার সন্দেহ ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির নেতারা মূলত বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক দরকষাকষির উদ্দেশ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছিলেন। এ বিষয়ে তিনি নুরুল হক নুর-এর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন বলে জানান।

রাশেদ খান বলেন, এনসিপির নেতাদের রাজনৈতিক বয়স কম হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তারা নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। তার দাবি, বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনেও যেসব বিতর্কে জড়ান না, এনসিপির নেতারা মাত্র ১৪-১৫ মাসেই সেসব বিতর্ক তৈরি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব বিতর্কের দায় অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো কেন বহন করবে?

পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভূমিকাও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খানের অভিযোগ, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার নামে দীর্ঘ সময় নেওয়া হলেও বাস্তবে সেই সময় ব্যবহার করা হয়েছে এনসিপি গঠনের জন্য। এমনকি ভবিষ্যতে ড. ইউনূস এনসিপির প্রধান হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার আরও অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে ড. ইউনূস নিজের ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটিয়েছেন, যা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানির শামিল বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে রাশেদ খান বলেন, শুধু আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামল নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়েও বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য এ ধরনের তদন্ত জরুরি।