


পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ কবে উদযাপিত হবে-এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রতি বছরই থাকে আগ্রহ ও প্রত্যাশা। এরই মধ্যে পাকিস্তানের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্ভাব্য একটি তারিখ জানিয়েছে। তাদের মতে, আগামী ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা সৌদি আরবের সঙ্গেও মিলতে পারে।
সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের রুয়েত-ই-হিলাল রিসার্চ কাউন্সিল মহাকাশীয় তথ্য ও চাঁদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ মে মধ্যবর্তী রাত ১টা ১৫ মিনিটে নতুন চাঁদের (নিউ মুন) জন্ম হবে, যা ইসলামী মাস গণনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ১৭ মে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স ১৮ ঘণ্টার বেশি থাকবে। সাধারণত চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার জন্য এই বয়সকে যথেষ্ট ধরা হয়। যদি ওই দিন আকাশ পরিষ্কার থাকে, তাহলে সন্ধ্যায় সহজেই জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৮ মে থেকে শুরু হবে জিলহজ মাস, আর ১০ জিলহজ অর্থাৎ ২৭ মে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।
রিসার্চ কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল খালিদ এজাজ মুফতি জানিয়েছেন, এ বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবে একই দিনে ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা বেশ জোরালো। কারণ, ১৭ মে করাচি, পেশোয়ারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সূর্যাস্তের পর প্রায় ৫৫ থেকে ৬৩ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তে দৃশ্যমান থাকতে পারে—যা খালি চোখে দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সবকিছুই নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। যদি কোনো কারণে ১৭ মে চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে জিলহজ শুরু হবে ১৯ মে এবং ঈদুল আজহা একদিন পিছিয়ে ২৮ মে উদযাপিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস থাকলেও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি সরাসরি চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে চাঁদ দেখার পরই।